সুন্দরবনের মৌয়ালরা হতদরিদ্র ও অশিক্ষিত হলেও সনাতন পদ্বতিতে পেশাগত কারনে তারা মধু আহরণ করে থাকে নিপুন হাতে। মৌয়ালরা ছোট-বড় দেশীয় নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে দলবদ্ধভাবে সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে যায়। সুন্দরবনের মধু আহরণ করা একাধিক মৌয়ালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা একটি গ্রুপে সাতজন করে থাকেন। একজন রান্নাসহ নৌকা পাহারা দেন, অন্যরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে মৌচাক খুঁজতে মধু আহরণের নানা সরঞ্জাম নিয়ে মৌমাছির পিছনে ছুঁটে চলে। অনেকে আবার বাইনোকুলারের সাহায্য নেয়।
এভাবে তারা মৌচাক খুঁজে পেলে ‘কু’ শব্দ করে সংকেত দেয়। তখন দলের অন্যরা সেখানে পৌঁছায়। এরপর তারা মাথায় গামছা বা কাপড় বেঁধে খড়-কুটার ‘উকো বা তড়পা’ দিয়ে আগুনের ধোয়া সৃষ্টি করলে মৌচাক থেকে মৌমাছিরা পালিয়ে যায়। এরপর চাক থেকে মধু ও মোম আহরণ করা হয়। মৌয়ালরা সনাতন পদ্ধতিতে মধু আহরণকালে প্রতি বছর অনেক মধু মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়। সুন্দরবন বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিবছর মধু আহরণকালে বেশ কিছু মৌয়াল সুন্দরবনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হামলায় নিহত হয়। এছাড়া সাপের কামড়ে, কখনো আবার কুমিরের হামলায় প্রাণ হারায় অনেকে।



0 comments:
Post a Comment